মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

মাননীয় প্রধান মন্ত্রী

০৫ জানুয়ারি ১৪ এ অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পর জানুয়ারি ১৪-এ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তৃতীয়বারের মত শপথ নেন শেখ হাসিনা।

এর আগে ০৯ থেকে ১৩ সাল পর্যন্ত দ্বিতীয়বারের মত এবং ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি প্রথমবারের মত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ ক্ষমতার  বাইরে ছিল। ১৯৯৬ সালে দীর্ঘ ২১ বছর পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ দেশ পরিচালনার সুযোগ পায়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের জ্যেষ্ঠ সন্তান শেখ হাসিনা। গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। ১৫ আগস্টের কালরাতে রাত্রে শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন শেখ রেহানা জার্মানিতে অবস্থান করার কারণে প্রাণে বেঁচে যান। পরে তিনি ইংল্যান্ডে চলে যান এবং সেখান থেকে ১৯৮০ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন শুরু করেন।

১৯৮১ সালে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাঁকে সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার সময় তিনি নয়াদিল্লীতে ছিলেন। ছয় বছরের নির্বাসিত জীবন শেষ করে তিনি ১৭ মে ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আসেন।

শেখ হাসিনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৩ সালে স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন। তিনি সরকারি ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজের ছাত্র সংসদের সহ সভাপতি ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একজন সদস্যা এবং ছাত্রলীগের রোকেয়া হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ছাত্রজীবন থেকেই শেখ হাসিনা সকল গণআন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন।

১৯৮৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি ৩টি আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি নব্বইয়ের ঐতিহাসিক গণআন্দোলনে নেতৃত্ব প্রদান করেন এবং সংবিধানের ৫১ ও ৫৬ ধারা অনুযায়ী ক্ষমতা হস্তান্তরের সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার ঘোষণা প্রদান করেন।

পরবর্তীতে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে শেখ হাসিনা পঞ্চম জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হন। তিনি রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তন করে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের জন্য রাজনৈতিক দলসহ সকলকে সংগঠিত করেন।

সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য ১৯৯৪-১৯৯৫ সালে শেখ হাসিনা তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রক্রিয়া চালুর জন্য তীব্র আন্দোলন শুরু করেন। তার আন্দোলনের ফলে সৃষ্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত ১২ জুন ১৯৯৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসাবে নির্বাচিত হয় এবং ২৩ জুন ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

শেখ হাসিনার সরকার বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেন। সে সময়কার তাঁর সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্যের মধ্যে রয়েছে ঐতিহাসিক গঙ্গার পানি বন্টন চুক্তি, পার্বত্য চট্রগ্রামে শান্তিচুক্তি, যমুনা নদীর উপর বঙ্গবন্ধু সেতু উদ্ধোধন, সর্বোচ্চ পরিমাণ খাদ্যশস্য উৎপাদন ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রবাদির দাম জন সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা।

শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী যিনি তাঁর পাঁচ বছরের মেয়াদপূর্তির পর ২০০১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর তাঁর দলের নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ নির্বিচারে হত্যা, নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা সেই সময় তাঁর দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন এবং তাঁদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। তিনি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে এবং শান্তির স্বপক্ষে জনমত গড়ে তোলেন।

শেখ হাসিনাকে বার বার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে তিনি বেঁচে যান। তাঁর উপর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর হামলাটি হয়েছিল ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট। সেদিন ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে শেখ হাসিনার জনসভায় বৃষ্টির মত এক ডজনেরও বেশী শক্তিশালী গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়েছিল। এ সুপরিকল্পিত হামলার ফলে তাঁর দলের ২৪ জন নেতা কর্মী নিহত হন এবং ৫০০ জনেরও বেশী আহত হন। শেখ হাসিনা নিজেও কানে মারাত্মকভাবে আঘাত পান।

২০০৭ সালের ১৬ই জুলাই মিথ্যা ও উদ্দেশ্যমূলক মামলা দিয়ে শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হয়। প্রায় এক বছর জেলে থাকার পর দেশ ও দেশের বাইরের প্রবল জনমতের কারণে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ১১ জুন ২০০৮ সালে শেখ হাসিনাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

শেখ হাসিনাকে ১৯৯৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বোষ্টন ইউনিভার্সিটি ডক্টর অব ল’ডিগ্রি প্রদান করে। জাপানের ওয়াসেদা ইউনিভার্সিটি ১৯৯৭ সালে ৪ জুলাই তাঁকে সম্মানসূচক ডক্টর অব ল’ডিগ্রিতে  ভূষিত করে। এ ছাড়া ইউনিভার্সিটি অব লিবারটি এবং যুক্তরাজ্যের ডানডি ইউনিভার্সিটি ১৯৯৭ সালে তাকে ‘‘ফিলসফি ইন লিবারেল আর্টসে’’ সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে। ১৯৯১ সালের ২৮ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের ‘‘বিশ্ব ভারতী’’ তাকে দেশিকোত্তম’’ সম্মানে ভূষিত করে। দেশ ও সমাজে শান্তি ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদানের কারণে অষ্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ১৯৯৯ সালের ২০ অক্টোবর ডক্টর অব ল’ডিগ্রি প্রদান করে। শান্তি, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁর অসাধারণ অবদানের জন্য ব্রাসেলসের বিশ্ববিখ্যাত ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি তাঁকে ২০০০ সালে ৪ঠা ফেব্রুয়ারি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করেন। ২০০০ সালে ৫ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ব্রিজর্পোট ইউনিভার্সিটি শেখ হাসিনাকে মানবাধিকার বিষয়ে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে।

পার্বত্য চট্রগ্রামে সুদীর্ঘ ২৫ বছরের গৃহযুদ্ধ অবসানের ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার আসামান্য অবদান রয়েছে। এই শান্তি প্রক্রিয়ায় তাঁর উল্লেযোগ্য অবদানের কারণে ১৯৯৮ সালে ইউনেসকো তাকে “হাটপাউয়েট-বোজনি” (Houphouet-Boigny) শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করে।

রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও মানবাধিকারের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসিকতা, ও দূরদর্শিতারও জন্য যুক্তরাষ্ট্রের রানডলপ ম্যাকন  উমেনস কলেজ ২০০০ সালের ৯ এপ্রিলে মর্যাদাসূচক “Pearl S. Buck`99” পুরস্কারে ভূষিত করে। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি তাঁর ক্ষুধার বিরুদ্ধে আন্দোলনের অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ শেখ হাসিনাকে সম্মানজনক সেরেস্ (CERES) মেডেল প্রদান করে। সর্বভারতীয় শান্তিসংঘ শেখ হাসিনাকে ১৯৯৮ সালে ‘‘মাদার টেরেসা’’ পদক প্রদান করে। বাংলাদেশে তৃণমূল পর্যায়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও গণতন্ত্র প্রসারে তাঁর অবদানের জন্য নরওয়ের ওসলোতে অবস্থিত মহাত্মা মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী ফাউন্ডেশন শেখ হাসিনাকে ‘‘গান্ধী পদক’’ প্রদান করে। ১৯৯৮ সালে আন্তর্জাতিক রোটারি ফাউন্ডেশন শেখ হাসিনাকে Paul Haris ফেলোশিপ প্রদান করে। আন্তর্জাতিক লায়নস ক্লাব কর্তৃক ১৯৯৬-১৯৯৭ সালে তিনি ‘‘Medal of Distinction’’ পদক ও ১৯৯৬ -৯৭ সালে ‘‘Head of State’’ পদক লাভ করেন। এছাড়া তিনি বৃটেনের গ্লোবাল ডাইভারসিটি পুরস্কার এবং ২বার সাউথ সাউথ পুরস্কারে ভূষিত হন।

শেখ হাসিনা বেশ কয়েকটি গ্রন্থ রচনা করেছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- “ওরা টোকাই কেন?”, “বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম”, “দারিদ্র বিমোচন, কিছু ভাবনা”, “আমার স্বপ্ন, আমার সংগ্রাম”, “আমরা জনগণের কথা বলতে এসেছি”, “সামরিকতন্ত্র বনাম গণতন্ত্র”।

তিনি বেশ কয়েকবার পবিত্র হজ্ব ও ওমরাহ্ পালন করেছেন। তিনি ‘‘জাতির জনক শেখ মুজিবর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাষ্ট’’- এর সভাপতি। তিনি গণতন্ত্র, ধর্ম নিরপেক্ষতা, সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি ও অগ্রগতিতে বিশ্বাসী এবং দারিদ্র বিমোচনে নিজেকে আত্মনিয়োগ করেছেন। প্রযুক্তি, রান্না, সঙ্গীত এবং বই পড়ার প্রতি তাঁর বিশেষ আগ্রহ রয়েছে।  
তাঁর স্বামী আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম ওয়াজেদ মিয়া ৯মে ২০০৯ ইন্তেকাল করেন।
শেখ হাসিনার জ্যেষ্ঠ পুত্র সজীব আহমেদ ওয়াজেদ একজন তথ্য প্রযুক্তি বিশারদ। তাঁর একমাত্র কন্যা সায়মা হোসেন ওয়াজেদ একজন মনোবিজ্ঞানী এবং তিনি অটিস্টিক শিশুদের উন্নয়নে কাজ করছেন। শেখ হাসিনার নাতি-নাতনীর সংখ্যা ৫জন।